গেমস জোন [পর্ব-২৮১] :: রেসিডেন্ট ইভিল এইচডি (২০১৫)

টিউন বিভাগ গেমস
প্রকাশিত

গেমস জোন

রেসিডেন্ট ইভিল। হরর ধাঁচের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ভিডিও গেমস সিরিজ। আর সিরিজের প্রথম গেম রেসিডেন্ট ইভিল ১৯৯৬ সালে প্লে-স্টেশনের জন্য মুক্তি পেয়েছিল। আর প্রায় ১৯ বছর পর ২০১৫ সালে গেমটির রিমেক বের হয় রেসিডেন্ট ইভিল এইচডি নামে। বছর খানেক আগে রেসিডেন্ট ইভিল ৪ এইচডি বের হলেও গেমটি তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু সিরিজের প্রথম গেমটি অনেকেই খেলেনি, তাই আশা করা যায় যে গেমটি ভালো ব্যবস্যা  করতে পারবে।

অরিজিনাল গেমের ফিক্সড ক্যামেরা, রেন্ডারেড ব্যাকগ্রাউন্ড, ট্যাঙ্ক কনট্রোল এসব ক্লাসিক উপাদান এইচডি গেমে থাকলেও তাদের সাথে নতুন কিছু উপাদান মিক্স করে গেমটি রিমেক করা হয়েছে। ২০০২ সালে গেমটির আরেক রিমেক করা হয় গেইমকিউব কনসোলের জন্য।

গেমটিতে তুমি দুটি চরিত্রের মধ্যে যেকোনো একটি চরিত্রের হয়ে খেলতে পারবে। জীল ভালেন্টাইন এর হয়ে খেললে এক্সট্রা আইটেম স্লট পাবে কিন্তু হেলথ পাবে কম এবং আরেকদিকে ক্রীস রেডফিল্ড এর ইনভেন্টরি সাইজ ছোট কিন্তু তার রয়েছে এক্সট্রিম ওয়েপন ডেমেজ। তবে দুজনেরই রয়েছে নিজস্ব আলাদা নিউনিক ক্ষমতা। যেমন জীল কোনো প্রকার চাবি ছাড়াই দরজা খুলতে পারবে তার লকপিক টুলের সাহায্যে আর ক্রীস এর হয়ে খেললে চাবি খুঁজে বেড়াতে হবে তোমাকে।

আরেকটি ক্লাসিক উপাদান হচ্ছে লিমিটেড আইটেম। গেমটিতে হেলথ প্যাক, গুলি বক্স এবং সেভ সিস্টেম সীমিত করে রাখা হয়েছে অরিজিনাল গেমের মতোই। তাই ভেবে চিন্তে গুলি এবং সেভ খরচ করতে হবে।

তবে রেসিডেন্ট ইভিল গেমে গুলি জমিয়ে রাখা যায় বলো?? হাহাহাহা!! তবে জুম্বিদের ডিফিট করলের তাদের মাথা কিন্তু তোমার পিছু পিছু এসে বোম ফাটাতে পারে, তাই আগুন দিয়ে তাদের মাথা পুড়িয়ে দিতে ভূলোনা যেন!

তবে রিমেক সংস্করণটি যেমনটি আশা করেছিলাম তেমনটি পছন্দ হয়নি আমার। ফিক্সড ক্যামেরা ভিউ প্রচুর বোরিং লাগে ! রেসিডেন্ট ইভিল ৩ পর্যন্ত এই ফিক্সড ক্যামেরা সিস্টেম ছিলো, আর আমি রেসিডেন্ট ইভিল ৪ এর আগের গেমসগুলো খেলেনি!

আর মেনুয়াল সেভ সিস্টেম আর কোনো চেকপয়েন্ট না থাকায় গেমটিতে আমরা হার্ডকোর সারভাইবাল হরর গেম বলে আখ্যা দিতে পারি। আবার অনেকের কাছে এইসব উপাদান থাকার কারণে গেমটি ভালো লাগবে না। বিশেষ করে আজকাল যুগের পোলাপানরা যারা রেসিডেন্ট ইভিল ৫, ৬ দিয়ে খেলা শুরু করেছে তাদের কাছে তো রেসিডেন্ট ইভিল এইচডি গেমটি সুপার হার্ড এবং বোরিং  মনে হবে। তবে আসল রেসিডেন্ট ইভিল ভক্তদের নিরাশ করবে না গেমটি। ‍

প্লেয়ার চরিত্রগুলো Special Tactics And Rescue Service (S.T.A.R.S) এর সদস্য, তারা এক বিশাল ম্যানশনে বন্দি হয়ে রয়েছে আর তাদের সাথে সেই ম্যানশনে রয়েছে মিউটেন্ট ক্রিয়েচার! যাদেরকে আমরা জুম্বি বলে থাকি! গেমটিতে তোমার লক্ষ্য বা অবজেক্টটিভ হচ্ছে ম্যানশনটির রহস্য উন্মোচন করা এবং ম্যানশন হতে জীবিত বের হয়ে আসা! এগুলো করতে হলে তোমাকে গেমটিতে বিভিন্ন ডকুমেন্টস সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে ম্যানশনের রহস্য লুকিয়ে আছে! এবং অরিজিনাল গেমটির মতোই এইচডি রিমেক গেমটিতেও রয়েছে ক্ল্যাসিক পাজল সিস্টেম! আর হেলথ রির্চাজ করার জন্য তুমি ব্যবহার করতে পারে ফাস্ট-এইড স্প্রে কিংবা জরিবুটির তিনটি পাতা!! আর গেমটিতে প্রোগ্রেস সেভ করতে হয়ে টাইপ রাইটে টাইপ করে! যেমনটি রেসিডেন্ট ইভিল ৪ গেমটিতে আমরা করে এসেছিলাম! লুল! তবে টাইপ রাইটের কালিও কিন্তু তোমাকে গেমটি হতে সংগ্রহ করে নিতে হবে। আর কালির এমাউন্ট কিন্তু প্রতি লেভেলে মাত্র ৭ কিংবা ৮টি তাও সেগুলো তোমাকে খুঁজে নিতে হবে! গেমটিতে তোমার শত্রু হিসেবে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের জুম্বি, অমৃত (Undead) কুকুর, দৈত্য, দৈত্যাকার মাকড়সা এবং বস!

গেমটির কাহিনীচক্র শুরু হয় জুলাই ২৪, ১৯৯৮ সালে। পুরো র‌্যাকন  সিটিতে প্রচুর খুন হত্যা গুম চলতে থাকায় র‌্যাকন পুলিশ সংস্থার Special Tactics And Rescue Service (S.T.A.R.S) কে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এসব ঘটনার তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। Special Tactics And Rescue Service (S.T.A.R.S) গ্রুপ কে দুটি দলে ভাগ করা হয়, আলফা এবং ব্রাভো। তাদেরকে পাঠানো হয় একটি পরিত্যাক্ত ম্যানশনে। তবে প্রথমে ব্রাভো টিমকে পাঠানো, পড়ে ব্রাভো টিমের কাছ থেকে কোনো সংবাদ না আসতে থাকায় আলফা টিমকেও সেখানে পাঠানো হয়। আলফা টিমের যেকোনো একজন সদস্য হয়েই তোমাকে খেলতে হবে!

আর রিমেক সংস্করণে গ্রাফিক্স আপডেট ছাড়াও গেমটির Ending এর আনা হয়েছে বৈচিত্রতা! গেমটিতে রয়েছে ৪টি ভিন্ন ভিন্ন এন্ডিংস যা গেমটিতে তোমার খেলার সিদ্ধান্তের উপর ভিক্তি করে হবে!

নির্মাতা এবং প্রকাশকঃ

ক্যাপকম

সিরিজঃ

রেসিডেন্ট ইভিল

খেলা যাবেঃ

বিভিন্ন কনসোলে

মুক্তি পেয়েছেঃ

জানুয়ারী ১৪, ২০১৫

ধরণঃ

সারভাইবাল হরর

খেলার ধরণঃ

সিঙ্গেল প্লেয়ার

সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টঃ

ডুয়াল কোর ২.৪ গিগাহার্জ গতির প্রসেসর

৪ গিগাবাইট র‌্যাম,

রাডিয়ন এইচডি ৬৪৫০ কিংবা জিটিএক্স ৪৬০ গ্রাফিক্স কার্ড,

উইন্ডোজ সেভেন, এইট, ১০

১২ গিগাবাইট ফ্রি হার্ডডিক্স স্পেস,

ডাইরেক্ট এক্স ১১

এটা থার্ড পারসন নাকি ৬ষ্ঠ পারসন শুটার!
রিমেক হলেও গেমটির গ্রাফিক্স রেসিডেন্ট ইভিল ৫ এর চেয়ে খারাপ
ফিক্সড ক্যামেরার যন্ত্রণা!
ভালই রিফ্লেকশন!
আমি নাগিন নাগিন!!!
ধুম মাচালে!
নাইস ড্রেস!
মরার ভেনিসিং সিস্টেম টা অদ্ভুত!
ক্যারেক্টারগুলোকে এত তরুণ ভাবে দেখি নাই আগে!

Level 10

আমি ফাহাদ হোসেন। Supreme Top Tuner, Techtunes, Dhaka। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 3 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 662 টি টিউন ও 429 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 118 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে!


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ক্যারেক্টারগুলোকে এত তরুণ ভাবে দেখি নাই আগে! 😛 😛 😀

ফাহাদ ভাই আমি তো তেমন ভাল খেলতে পারি না @ তবে আপনার গেমওয়ালা টিউন গুলো দেখে গেলতে মন চায়। @ তবে মাঝেমাঝে চেষ্টা করি ।