ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

দিন দিন স্মার্টফোনগুলো কেন দামী হয়ে উঠছে?

টিউন বিভাগ কী কেন কীভাবে
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

আজ থেকে মাত্র ১০ বছর আগে ২০০৬/২০০৭ সালে স্মার্টফোনগুলো ছিলো মূলত নোকিয়া এবং মটোরোলা কোম্পানির সিম্বিয়ান ভিক্তিক ফোনগুলো। তখনকার সময়ে টপ সারির একটি স্মার্টফোনের দাম ছিল হাজার তিরিশের মধ্যেই।

ADs by Techtunes ADs

কিন্তু ১০ বছর পর ২০১৭ সালে এসে একটি কোম্পানির টপ সারির কোনো ফোন কিনতে গেলে কমপক্ষে আপনাকে ৫০/৬০ হাজার কিংবা তার থেকেও বেশি বাজেট ধরে রাখতে হবে। কিন্তু কেন? দিন দিন স্মার্টফোনগুলো কেনই বা দামী হয়ে উঠছে? আজকের টিউনে আমি টিউনার গেমওয়ালা এ বিষয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করতে এসেছি!

দিন দিন স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো তাদের টপ সারির বিভিন্ন ফোনের বাজেট বাড়িয়ে যাচ্ছেন এবং আশ্চর্য্যমূলক ব্যাপার হলো যথেষ্ট পরিমাণ ক্রেতা থাকায় তারা পরবর্তীতে আরো উচ্চমূল্যে স্মার্টফোন নির্মাণে উৎসাহিত হয়ে থাকেন। যেমন অ্যাপল কোম্পানি সম্প্রতি তাদের সর্ব উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন আইফোন এক্স বাজারে এনেছে।

পৃথিবীতে প্রথম মোবাইল ফোন বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে তখন মোবাইল ফোনগুলোর দাম ছিলো প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বিশ্বে সর্বপ্রথম স্মার্টফোন বাজারে আসে ১৯৯৪ সালে এবং তখন এই স্মার্টফোনের দাম ছিলো প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলার। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত স্মার্টফোনগুলো শুধুমাত্র পোর্টেবিলিটির সুবিধা দিতে পারতো।

২০০০ শতকের শুরু দিকে স্মার্টফোনগুলো শুধু কল রিসিভ করা কিংবা কল সেন্ড করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আরো অনেক কার্যাবলির জন্য উন্মুক্ত হওয়া শুরু করে।

পরবর্তীতে ২০১০ সাল থেকে যখন স্মার্টফোনগুলো ফুল টাচ স্ক্রিণে রূপান্তরিত হয়ে যায় তখন থেকে এর দামও আবারো উর্ধগতিতে যেতে থাকে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে আইফোন রিলিজের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সংঙ্গাটিই বদলে যায়।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে যখন অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বাজারে চালু হয় তখন থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত আমরা স্মার্টফোনের দামের উত্থান দেখে আসছি। প্রথমে আসি আইফোনের সর্বশেষ মডেল আইফোন এক্স নিয়ে।

আইফোন এক্স মার্কিন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হাজার ডলার থেকে। তবে অনান্য দেশে যেমন ইউনাইটেড কিংডমে ২৫% বেশি দামে, চায়নাতে ৩০% বেশি দামে,   অস্ট্রেলিয়ায় ৩২% বেশি দামে এবং হাঙ্গেরি দেশে মার্কিন বাজারের থেকে প্রায় ৪৭% বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তো নিচে দিন দিন স্মার্টফোনের দাম বাড়ার ৩টি যুক্তিগত কারণ আমি উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম:

১) স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচ বাড়ছে!

ADs by Techtunes ADs

যেকোনো কোম্পানি তার টপ সারির স্মার্টফোনকে সময় উপযোগী এবং অনান্য কোম্পানির স্মার্টফোনগুলোর সাথে প্রতিযোগীতা করার উপযোগী করে তৈরি করে থাকে। একে ফ্ল্যাগশীপও বলা হয়। ফ্ল্যাগশীপ স্মার্টফোনগুলো কোনো কোম্পানির সর্বশেষ্ঠ এবং সর্বউচ্চমূল্যের হয়ে থাকে। যেমন Oppo কোম্পানির বছর খানেক আগের ফ্ল্যাগশীপ মডেলটি ছিল Oppo F1, তারপর আসে  F1s, এভাবে বর্তমানে F5 মডেলটি কোম্পানির ফ্ল্যাগশীপ হয়ে বাজারে রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির অনান্য সেক্টরের মতো এই স্মার্টফোন সেক্টরেও প্রতিনিয়ত নতুন মডেলগুলোকে আগের থেকে বেশি ফিচার এবং আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করে থাকে।

আর এই অতিরিক্ত এবং ইউনিক ফিচার যুক্ত করতে গিয়েও কোম্পানিগুলোকে মাথা পিছু স্মার্টফোনগুলোতে বেশ উৎপাদন খরচ ব্যয় করতে হয়। আর ফলাফল স্বরূপ ভোক্তাদের কাছে গিয়ে দামগুলো অনেক গুণে বেড়ে যায়। এছাড়াও কোম্পানিগুলো তাদের নতুন ফিচার সরাসরি বাজারে উন্মুক্ত করে দেবার আগে টেস্ট হিসেবে বেটা সংস্করণ পরীক্ষামূলক ভাবে কিছু ভোক্তাদের কাছে দিয়ে রাখে। এই সকল কাজেও কোম্পানিগুলোকে বেশ অর্থ খরচ করতে হয়। তাই সময়ের সাথে সাথে স্মার্টফোনগুলো উৎপাদন খরচ বাড়ছে আর এদিকে বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়াও নতুন টেকনোলজি স্মার্টফোনে আনতে হলে কোম্পানিগুলোকে এদের ইঞ্জিনিয়ারদেরকেও চড়া মূল্যের বেতন দিতে হয়। আমরা স্যামসং গ্যালাক্সি এস সিরিজটি দিকে তাকালেই এটা ভালো করে বুঝতে পারবো।

প্রতিটি গ্যালাক্সি এস২ বানাতে কোম্পানির খরচ হয়েছিল ২০০ ডলার, এস৩ তে ২৬০ ডলার, এস৪ য়ে ২৭০ ডলার, এস ৫য়ে ৩০০ ডলার, এস৬ য়ে ২২০ ডলার, এস৬ EDGE য়ে ২৮০ ডলার এবং এস৭ য়ে খরচ পড়েছিল প্রায় ২৩০ মার্কিন ডলার। তাই আমরা এস সিরিজের এর বিক্রিয় মূল্য পেয়েছিলাম ৬৫০ ডলার থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত। যা প্রতি বছর মডেল ভেদে আপ-ডাউনে ছিল।

স্যামসং তাদের সবশেষ মডেল গ্যালাক্সি এস ৮ য়ে উৎপাদন খরচ হিসেবে রেকর্ড পরিমানের ৩২০ ডলার করে খরচ করেছে। তাহলে আমরা বুঝতেই পারছি এ বছরের স্যামসংয়ের দাম এত কেন! অন্যদিকে অ্যাপল এর আইফোন ৭ য়ের উৎপাদন খরচ ছিলো সেট পিছু ২৪৮ মার্কিন ডলার। কিন্তু তাদের সর্বশেষ মডেল আইফোন এক্স এর উৎপাদন খরচ প্রতি সেটে প্রায় ৫৮১ ডলার করে। তাই ইতিহাসে আইফোন এক্স হলো অ্যাপলের সবচেয়ে দামী স্মার্টফোন!

২) স্মার্টফোনের ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দিন দিন স্মার্টফোনের দাম বৃদ্ধির ২য় কারণ হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে স্মার্টফোনের ক্যাপাবিলিটিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান যুগের একটি হাই এন্ড স্মার্টফোন দিয়ে যে সকল কাজ আমরা এখন করতে পারছি সেটা কয়েক বছর আগে ল্যাপটপ দিয়ে করতে হতো আমাদেরকে। দিন দিন এই উন্নত সব ক্যাপাবিলিটির কারণেও স্মার্টফোনে দাম বেড়ে চলেছে।

বর্তমান যুগের স্মার্টফোন গুলোকে কম্পিউটারের মতো উচ্চ গতির প্রসেসর এবং র‌্যাম সহ গ্রাফিক্স কার্ডও ব্যবহার করা হচ্ছে। স্মার্টফোনগুলোতে সরাসরি র‌্যাম ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে আপনি লক্ষ্য করে দেখে থাকবেন যে বাজারে কম্পিউটারের র‌্যামেরও দাম আজকাল অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ আজকাল ট্যাবল্যাট পিসিতে যেসকল হার্ডওয়্যার জিনিসপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে যেগুলো স্মার্টফোনেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

৩) সাপ্লাই এবং ডিমান্ড!

সর্বশেষ কারণ হিসেবে সাপ্লাই এবং ডিমান্ডের কথা বলা যায়। কারণ বাজারে যতই দামী স্মার্টফোন আনা হোক না কেন সেটি যদি ভালো বিক্রি না হয়, জনপ্রিয় না হয়, বাজার যদি মাতাতে না পারে তাহলে কোম্পানিটি ভবিষ্যৎতে এই ধরনের দামী স্মার্টফোন লঞ্চ করার আগে কয়েক বার ভাববে।

ADs by Techtunes ADs

অন্যদিকে আইফোন সিরিজের কথাই ধরি। এরা যে দামেই নতুন আইফোন মডেল বাজারে আনুক না কেন আইফোন ব্রান্ডের ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের জন্য অ্যাপল কোম্পানি ভবিষ্যৎতে যেকোনো উচ্চমূল্যের মডেল বাজারে আনার ক্ষমতা রেখে থাকে। সাপ্লাইয়ের কথা বলতে আমরা ইউনিক কিছু স্মার্টফোনের কথা বলতে পারি যেগুলো খুবই কম সংখ্যক হারে উৎপাদন করা হয়েছে। যেমন আইফোন এক্স এর টাইটানিয়াম মডেলটি। যেটি সোনা দিয়ে তৈরি আর দাম রাখা হয়েছে প্রায় চার হাজার ডলারের মতো।

তো বর্তমান যুগে নতুন নতুন স্মার্টফোন নেবার নেশাকে ড্রাগ নেশার মতোই মনে করা হচ্ছে। আপনার কি মতামত এ ব্যাপারে? সেটি আমাদের নিচের টিউমেন্ট বক্সে জানাতে পারবেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি বাজারে শুরু অ্যাপল, স্যামস্য, হুয়াওয়ে ছাড়াও যদি আরো কিছু ভরসা যোগ্য স্মার্টফোন ব্রান্ড আসতো তাহলে হয়তো বা বর্তমানের স্মার্টফোনগুলোর দাম আমাদের আমজনাতার হাতের নাগালে হতো!

ADs by Techtunes ADs
Level 10

আমি ফাহাদ হোসেন। Supreme Top Tuner, Techtunes, Dhaka। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 1 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 658 টি টিউন ও 429 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 92 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে!


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস