ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

ঢাবি আর ঢাবি নাই, ভর্তি আবেদনে ভরাডুবি! আবেদন পত্র বাতিল হতে পারে অসংখ্যক পরীক্ষার্থীর!!

টিউন বিভাগ খবর
প্রকাশিত

আসসালামু আলাইকুম।

ADs by Techtunes ADs

😎 টেকটিউন কমিউনিটি সাইটের সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা। আশ করি সবাই কুশলেই আছেন। আসলে ব্যস্ততার জন্য টেক বিষয়ে কোন টিউন করতে পারছিনা। আজকের যে শিরোনাম বিষয়ে লিখতে যাচ্ছি সেটি কোন টেক বিষয়ক রিভিউ নই। বলা যেতে পারে একটি প্রতিবেদন কিংবা গণ বক্তব্য মূলক স্ট্যাটাস! এবার মূল আলোচনাতে যাই। 😆

আপনারা জানেন যে, এই বছর যারা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতে পাস করেছেন ও কাংখিত ফলাফল করেছেন। সেই সকল মেধাবীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ১ম পচ্ছন্দ থাকে দেশের সর্বোচ্চময়ী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অবশ্য অনেকে ঢাবি হিসাবে বলি ও চিনি। প্রতিবারের ন্যায় ঢাবি প্রশাসন এবারো ভর্তি সার্কুলার প্রকাশ করেছে এবং তারাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য সবার আগে ভর্তি পরীক্ষা নিবে ও ফলাফল প্রকাশ করবে। আসলে প্রতি বছরই ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাবি বিভিন্ন নিয়ম নীতি চালু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম নই। তবে এবার অনেকের কাছে হতাশা করেছে ও করবে। শুধু মাত্র শিক্ষার্থী নই, এর পাশাপাশি মুক্তমনা, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, সচেতন পাঠক মহল ও শিক্ষিতদের কাছেও বিস্মিত করবে বোথ হয়! এই উপলক্ষে আপনাদের কাছে সহজবোধ্য উপস্থাপনের জন্য নিম্নরুপ তথ্যাদি আলোকপাত করছি।

১। ঢাবি তাদের সাইটে আবেদন পত্র গ্রহন শুরু করে এই মাসের ০৭/০৮/২০১৭ ইং তারিখে বেলা ২.০০ ঘটিকার সময়ে। অনলাইন সিস্টেম চালু করার তিন (০৩) দিন পর তারা ছবি আপলোড উপলক্ষে নোটিশ প্রদান করে যে, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হওয়া বাঞ্চনীয়।

২। সুতরাং অনুমেয় এই ৩ দিনে মিনিমাম ৮-১০ হাজারের মত আবেদন সাবমিট করা হয়েছিল। এবং ঢাবি ভর্তি কমিটি উল্লেখ করেছিল ছবিটি পরিবর্তন করে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি আপলোড করতে।

সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি নিয়ে কিছু আলোকপাত

  • ক। আসলে ছবিতে সাদা কিংবা নীল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কি ম্যাজিক আছে সেটা আমার বোধগম্য নই। কারন, ছবিতে চেহারা শনাক্তকরনই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। গতবারও ঢাবিতে নীল ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে ছবি সাবমিট করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কেন নীল হতে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড??
  • খ। হয়ত ছবি সাদা হবার কারনে ঢাবি কর্তৃপক্ষের সার্ভারে ইমেজ সাইজ সেইভ হতে পারে কিংবা প্রিন্ট করার খরচ কম হতে পারে।
  • গ। আমার কয়েকজন বন্ধু ও পরিচিত জনের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি ক্রিয়েট করে আপলোড করতে অসুবিধাতে পড়েছিলাম। যেমনঃ ছবি সঠিক সাইজ দিলেও আপলোড হচ্ছিলনো এবং সাইজ ডিটেক্ট করতে পারছিলো না। অতপর ঢাবির পরামর্শ নম্বরে কল করলে অনেকে বলেন যারা পূর্বে পূরন করেছেন তাদের সমস্যা নাই। আবার অন্য আরেকজন বলেন সমস্যা আছে! আমরা যে নীতি করব সেই নীতিতে আপনাকে চলতে হবে!
  • ৩। এর প্রায় এক সপ্তাহের মধ্য আজ নতুন করে তাদের সাইটে নীতিমালা যোগ করেছে। নীতিমালাটি নিচের চিত্রে দেখুন-

  • ৪। নতুন নীতিমালাতে কি বলা হয়েছে? উল্লেখ করা হয়েছে দুই কান ও চোখ দেখা না গেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছবিটি গ্রহন করবেনা। অর্থাৎ প্রার্থীর আবেদন পত্র বাতিল হবে। তার সাথে যোগ হয়েছে টাকা জমা দেওয়া হোক কিংবা নাহোক নতুন ছবি আপলোড করে, আবেদন করে পূনরায় ব্যাংকে ফি জমা দিতে হবে!

এই বিষয়ে অভিমত

ক। তাহলে বিষয়টি একবার ভাবুন তো? ঢাবি এবার ভরাডুবির খেলাতে মেতেছে! এমনই যদি হবে তাহলে তো মাঝপথে না এসে তারা ১ম দিকে বলেই দিলেই হতো। কিংবা সার্কুলারে উল্লেখ করলে হত। বিষয়টা এখন অনেকের হবে আমের সাথে শালটাও যাচ্ছে!!

খ। তাদের কথাটা শুনে বোঝা যাচ্ছে ভূলটা তাদেরই। সুতরাং ছবি পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু এটা কেমন কথারে ভাই! যারা ব্যাংকে পে দিয়েছে তারা কেন অযথা আবেদন করে পূনরায়  টাকা  জমা দিবে? টাকার কি আলাউদ্দিনের চ্যারাগ বানিয়েছে ঢাবির ভর্তিইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। মিনিমাম এই ৭ দিনে প্রায় ৮০-৯০ হাজার শিক্ষার্থী তাদের আবেদন সাবমিট করেছে। তাহলে দায়টা কাদের??

ADs by Techtunes ADs

গ। বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগ শুরু হয়েছে অনেক জেলাতে বিশেষ করে অতি বৃষ্টি ও সৃষ্ট বন্যা। এই সময় অনেকেই অসহাত্বভাবে দিনযাপন করছেন কিংবা আরো শোচনীয়। তাহলে ঐ সকল পরিবারের শিক্ষার্থীরা কেন ২য় বার টাকা ব্যাংকে দিবে? অনেকেই হয়ত প্রথমেই ২ টি ইউনিটে ৭০০-৮০০৳ মত খরচ করেছে। এখন আবার মরার উপর খয়ের ঘাঁ।

ঙ। বিষয়টা না হয় আমি মানলাম। তারপরেও তারা ক্লিয়ারলি কিছু বলে নাই যেমনঃ মুলত দুই কান দেখা যায় এমন ছবি কাদের জন্য প্রযোজ্য ছাত্র নাকি ছাত্রী?

চ। আচ্ছা ঠিক আছে মেয়েদের কথা! যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন তারা দুই কান খোলা রেখে কিভাবে ছবি ‍তুলবে? কারন, দুই কান খোলা রেখে মাথাতে হিজাব কিংবা কাপড় রেখে ছবি তুলতে অসুবিধা সৃষ্টি হয়। এখানে ঢাবি কর্তৃপক্ষের একটি প্রিভিউ ছবি উপস্থাপনা করলে বুূঝতে সুবিধা হত। আরেকটি বিষয় কানের সাথে কি সম্পর্ক সেটা বোধগম্য নই? কারন চেহারা/মুখমন্ডল দেখে তো পরীক্ষার্থী চিহিৃত করা যায়।

ছ। অবশ্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবির অনুরুপ ভর্তি সার্কুলার করেছে। তবে যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন তাদের জন্য বিষয়টি শিথিল করা হবে। সাধুবাদ জানাই জবি ভর্তি কমিটিকে।

জ। ঢাবি এখন বলেছে চোখ, কান দেখিয়ে ছবি তুলতে হবে। কিন্তু এখানে কোন ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা উল্লেখ করে নাই। দেখা যাচ্ছে যে, পরবর্তীতে শেষ সময়ে এসে তারা আবার না বলে পূর্বের সকল ছবি বাতিল, নতুন করে সাদা ব্যাক গ্রাউন্ড হতে হবে!

ঝ। হ্যা নিরাপত্তা বলে কথা আছে। অনেকেই পরীক্ষাতে অসাধুপায় অবলম্বন করে। সেই ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবশ্যই ‍মুখ খোলা রেখে পরীক্ষা দিতে হবে। কোন রকম ঘড়ি, ব্যাগ, ক্যালকুলেটর কিংবা যন্ত্রাদি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। তথাপি মেয়েদের চেকিংয়ের জন্য মেয়ে ভলেন্টিয়ার রাখা যেতে পারে। এবং পরীক্ষার কেন্দ্রের কক্ষে ঘড়ির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

ঞ। এরপরেও সমস্যা থাকলে একেবারে ঢাবি প্রশাসন বলে দিক মাদ্রাসা ও ধর্মীয় অনুগামী পরীক্ষাদের আবেদন পত্র ও পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নাই। বিশেষ নিরাপত্তার জন্য মেয়েদেরকে সিনেমা নায়িকাদের মত স্ক্যাট জাতীয় পোশাক পড়ে আসতে হবে!!

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণঃ

১। এই রকম সার্কুলার কে জারি করছে, হঠাৎ করে নিয়ম নীতি পরিবর্তন করছে কে, এবং ভর্তি পরীক্ষার কমিটিতে কারা রয়েছেন সেটা সরকারের পক্ষ হতে অনুসন্ধান চালানো হোক।

২। যারা ইতিমধ্য টাকা জমা দিয়েছেন কিন্তু ছবি আপলোডে সমস্যা আছে। তাদের কোন রকম ২য় বার ফি গ্রহন ছাড়াই ছবি পরিবর্তনের সুযোগ প্রদান করা হোক। এতে অনন্ত অনেক দরিদ্র শিক্ষাদের অযথা অর্থ হয়রানি হতে রক্ষা পাবে।

ADs by Techtunes ADs

৩। বর্তমানে ছবির ব্যাক গ্রাউন্ড কিরুপ হবে তা পরিস্কার ভাবে বলা হোক।

৪। বিষয়টি মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, উপাচার্য ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষন করছি। যাতে এই বিষয়ে নতুন করে কেউ হয়রানির শিকার না হন। এবং বাস্তব নীতিমালা অনুসরন করা  হোক।

৫। যারা এর মধ্য পে করেছেন তাদের আলাদা সাপোর্ট টিকিট অপশনটি রাখলে ভাল হয়।

শেষকথা

আলোচনার একদম শেষ পর্যায়ে। উপরোক্ত প্রতিবেদন হিসাবে বিষয় গুলো বুঝানোর চেষ্টা করেছি। টিউন কার্যকর মনে হলে নিজে সোস্যাল সাইটে শেয়ার করুন। আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকুন।

ADs by Techtunes ADs
Level 0

আমি এএমডি আব্দুল্লাহ্। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 161 টি টিউন ও 1080 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 4 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

সম্মানীয় ভিজিটর বন্ধুগন! সবাইকে আন্তরিক সালাম ও ভালবাসা। আশা করি ভাল আছেন। পর সংবাদ যে, আমরা একটি ব্লগ সাইট তৈরি করেছি। সাইটটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম শিক্ষা ও প্রযুক্তি নির্ভর। প্রযুক্তি, শিক্ষা, কম্পিউটার বিষয়ক যেমনঃ অনলাইন ইনকাম, ফ্রিল্যান্স, টিউটোরিয়াল, মুভি, গেমস, সফটওয়্যার, ভ্রমন, ইতিহাস, ভূগোল, কার্টুন, ধর্ম, টেক সংবাদ, এবং সংবাদপত্র ফিউচার...


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

কি যে হচ্ছে না এই দেশে ! অবাক করার মত সব কাণ্ডকারখানা আর তা দেখার মতো উপযুক্ত লোক ও নেই । আমরা জনগণরা বাবা-মা হীন এতীমদের মতো …