ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

যারা চেকের মামলা করেন তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

Level 4
Founder & Chairman, The Income Tax Professionals, Dhaka

নিচের নির্দেশনাটি মূলত: ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের জন্য।

ADs by Techtunes ADs

Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৩৮ ধারার দরখাস্তে কিছু তথ্য না থাকলে মামলা আমলে না নেয়ার জন্য মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো হলো-

  • ক) চেক ইস্যুর তারিখ
  • খ) চেক ডিজঅনারের সর্বশেষ তারিখ
  • গ) চেক ডিজঅনারের বিষয়ে ব্যাংক হতে তথ্য পাওয়ার তারিখ
  • ঘ) নোটিশ পাঠানোর তারিখ
  • ঙ) নোটিশ গ্রহণের তারিখ

যদি উপরের কোন একটি তথ্য বাদ যায় তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট Complainant কে ২০০ ধারায় পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানাবেন।

যদি N.I. Act এর ১৩৮(এ) হতে (সি) উপধারা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষা করে দেখবেন নোটিশ প্রাপ্তি বা নোটিশ প্রেরণের এক মাসের মধ্যে আদালতে মামলা করেছে কী না। যদি এক মাসের মধ্যে মামলা করে থাকে তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিবেন।

ম্যাজিস্ট্রেটকে মনে রাখতে যে, মামলার এই পর্যায়ে Complainant এর এই নিছক বর্ণনা এবং মূল চেক দাখিলই মামলা শুরুর জন্য যথেষ্ট। মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে মামলা প্রমাণের দায়িত্ব Complainant এর।
-
বিস্তারিত জানতে পড়া যেতে পারে: 2018 Apex Law Report 12 ALR (HCD) 70

চেকের মামলা (N.I. ACT LAW 1881):

পাওনাদারকে টাকা না দিয়ে একটি চেক ধরিয়ে দিবেন আর নিশ্চিন্তে সূখ নিদ্রায় কাটাবেন তা হয়না। ব্রিটিশ সময়ে এনআই এক্ট ১৮৮১ আইন পাশ করা হয় পাওনাদারদের সুরক্ষার জন্য। যা, সর্বশেষ ২০১২ সংশোধিত হয়।

সত্যিই কি চেক নিয়ে পাওনাদার টাকা আদায় করতে পারেন?

অনাদায়ী অর্থ ফেরত না আসলে সর্বশেষ

  1. উকিল নোটিশ
  2. মামলা
  3. মামলার সমন
  4. ওয়ারেন্ট
  5. এরেস্ট

অত:পর কোনোরকম নগদ পরিশোধ (ডাইন পেমেন্ট) ছাড়াই জামিন।

এবার মামলা চলতে থাকে কচ্চপ গতিতে।

পাওনাদারের ব্যয় ও হয়রানি চলে থাকে সম গতিতে। তাহলে এন.আই এক্টে মামলায় কে উপকৃত হলো? ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাধ্যবাদকতায় লেগে থাকে। ব্যক্তি বিশেষ রনে ভঙ্গ দিলেই বাঁচে।

ADs by Techtunes ADs

এর মধ্যে চেক দাতা (দেনাদার) অক্কা পেলে তাৎক্ষণিক মামলা খতম। আইনে আর অভিযোগের সুযোগ নেই। পাওনা টাকা আদায়ে দৌঁড়াতে গিয়ে কপর্দক শূন্য। অন্ধ আইনের বাণী নিবৃতে কান্না।

এ আইন সংষ্কার করে যুগোপযোগী করা সময়ের একান্ত দাবী। জামিনের ক্ষেত্রে অন্তত ১০/২০% ডাউন পেমেন্ট (পরিশোধ) শর্ত আরোপ করে বিষহীন অপূর্নাঙ্গ আইনটি সংশোধন করে পাওনাদারের স্বার্থ সুরক্ষা করা এখনই প্রয়োজন।

চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত মামলার পদ্ধতি

* N.I Act (নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের)মামলা এবং অন্যান্য ঃ

যেভাবে মামলা করতে হবে

সাধারণত NI Act মামলা একজনের পক্ষে আরেকজন করতে পারেন না। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চেক দেয়া হয়েছে কেবল তিনিই মামলা করতে পারেন। তবে, Power of Attorney মাধ্যমে দ্বিতীয় কেউ চেক হোল্ডার বা বাদীর পক্ষ হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন।
মামলা করার ক্ষেত্রে তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ, চেক ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আইনি নোটিশ পাঠাতে হয়। নোটিশ পাঠিয়ে ৩০(অর্থাৎ নোটিশে উল্লেখিত) দিন অপেক্ষা করতে হয়।

এরপর নোটিশের সময় শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়। যে আদালতে মামলা করতে হবেঃ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে(ম্যাট্রোপলিটান এলাকা হলে সি এম, এম আদালতে) মামলা দায়ের করতে হয় তবে বিচারের ক্ষমতা দায়রা আদালতের।

এ ধরনের মামলা দায়ের করতে যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন হয়

  1. চেক প্রদানকারীর নাম,
  2. চেক প্রদানের বা লেখার তারিখ,
  3. চেক ডিজঅনার হওয়ার তারিখ,
  4. ব্যাংক, ব্যাংকের শাখার নাম, হিসাব নম্বর, চেক নম্বর ও টাকার পরিমাণ,
  5. চেক ডিজঅনার হওয়া ব্যাংকের নাম, শাখা, তারিখ ইত্যাদি,
  6. চেক ডিজঅনার অর্থাৎ যেকারণে চেক ডিজঅনার হয়েছে ব্যাংক প্রদত্ত স্লিপ।

কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চেক দেয়া হয়ে থাকলে ইস্যুকারী কর্মকর্তার নাম, পদবী ও প্রতিষ্ঠানের নাম। যে কারণে চেকটি ডিজঅনার করা হয়েছে।

চেক ডিজঅনার হওয়ার কথা জানিয়ে নোটিশ পাঠানোর প্রমাণ এবং নোটিশ ফেরত এসে থাকলে ফেরত আসার তারিখসহ অন্যান্য তথ্য, চেক-লেনদেনের তথ্য।

আপীল

একাউন্টধারী চেকে উল্লিখিত অর্থের ৫০% পরিশোধ করতে সক্ষম হলে আপীল করা যায় না।

জেনে রাখা ভালো-

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের(NI Act-এর) অধীনে মামলা দায়ের
করতে না পারলে দন্ডবিধির ৪০৬ এবং ৪২০ ধারা অনুসারে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়।
তবে এক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। দোষী সাব্যস্ত হলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

ADs by Techtunes ADs

NI_Act এর ১৩৮ ধারার মামলা :

  • ১) চেকে উল্লেখিত তারিখের ৬ মাসের মধ্যে চেক ডিজঅনার করাতে হবে।
  • ২) চেক ডিজ অনার করার ৩০ দিনের মধ্যে আসামী বরাবরে লিগ্যাল নোটিশ দিতে হবে।
  • ৩) আসামী নোটিশ প্রাপ্তির বা নোটিশ প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে টাকা প্রদান না করলে, পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আমলী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
  • ৪) বিচার দায়রা আদালতে হবে।
  • ৫) শাস্তি : সর্বোচ্চ ১বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা চেকে উল্লেখিত অর্থ দণ্ডের সর্বোচ্চ ৩ গুণ পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ড।

১৮৮১ সনের (সংশোধনী ২০০৬) এর N.I. Act-138 এর ধারায় মামলা করার জন্য চেক নগদায়নের জন্য ব্যাংকে উপস্থাপন করিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারনে চেক ডিজঅনার হইলে ডিজঅনার এর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি ডাকে নোটিশ পাঠিয়ে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন পরে মামলা দায়ের করতে হয়। একটি চেকের Validity ৬মাস। ৬মাসের মধ্যে ব্যাংকে যতবার খুশী ডিজঅনার করে মামলা দায়ের করা যায়। তবে ১বার ডিজঅনার করে মামলা দায়ের করার আইনগত কোন বাঁধা নাই। তবে: #হিসাবটি চেক দাতার # স্বাক্ষরটি তার # ৬মাসের মধ্যে ডিজঅনার করা হয়েছে # ডিজঅনারের ৩০দিনের মধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নোটিশ প্রাপ্তির ৩০দিন পর মামলা করা হয়েছে ইত্যাদি সঠিক ভাবে হলে সেক্ষেএে চেকের মামলা থেকে বাদীর হারার কোন সম্ভাব্যনা নাই। এই মামলায় শাস্তি হলো চেকের উল্লেখিত টাকার ৩গুন জরিমানা এবং ১বছরের জেল। এই মামলায় শাস্তি হলো চেকের উল্লেখিত টাকার ৩গুন জরিমানা এবং ১বছরের জেল। এই মামলার আসামী পক্ষকে দন্ডাদেশ এর বিরুদ্ধে আপীল করতে হয় অএ আইনের ১৩৮(ক) ধারা মতে চেকের উল্লেখিত টাকার ৫০% টাকা জমা দিয়ে এবং দন্ড প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে।

N. I Act / হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনঃ

চেক ডিস অনার ও মামলা সংক্রান্তে - ধারা-১৩৮, ১৪১

  1. চেক স্বাক্ষর হওয়ার পর, চেকে উল্লেখিত তারিখ থেকে চেকটি ৬ মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা করতে হবে। (৬ মাসের মধ্যে একাধিকবার জমা করা যাবে)
  2. চেকটি ক্যাশ নাহয়ে ডিস অনার হলে ব্যাংক থেকে ডিসঅনার স্লিপ নিতে হবে।
  3. ডিস অনারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পাওনা টাকা দাবীকরে চেকদাতা (একাউন্টের মালিক) বরাবর লিগ্যাল নোটিশ দিতে হবে। (সরাসরি হাতেহাতে/রেজিঃ ডাকযোগে/পত্রিকায়। )
  4. প্রাপক নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংস্লিষ্ঠ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রাপককে আসামী করে নালিশি মামলা দায়ের করতে হবে।
  5. মামলা দাখিল করার সময়- চেক, ডিস অনার স্লিপ, লিগ্যাল নোটিশ, রেজিঃ ডাক রশিদ, প্রাপ্তি স্বীকার পত্র এর ফটোকপি দাখিল করে, মূল কপি দেখাতে হবে।
  6. বিজ্ঞ আদালত নালিশ গ্রহন করে আসামীর প্রতি সমনের আদেশ দিবেন। তখন মামলাটি সি, আর নামে পরিচিত হবে।
  7. সমন পেয়ে আসামী হাজির হয়ে জামিন চাইলে জামিন পাবে।
  8. হাজির নাহলে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ হবে। পুলিশ আসামীকে গ্রেফতার করতে পারবে।
  9. হাজির হলে বা হাজির করাহলে বিজ্ঞ আদালত জামিন দিয়ে বিচারের জন্য বিজ্ঞ দায়রাজজ আদালতে প্রেরণ করবেন। সেখানে আসামী পুনরায় জামিন গ্রহন করার পর চার্জ গঠনঅন্তে বিচার শুরু হবে।
    এখানে মামলাটি দায়রা মামলানামে পরিচিত হবে।
  10. বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে - চেকে উল্লেখিত টাকার ৩গুন পর্যন্ত জরিমানা ও ১বছর কারাদণ্ড দেয়ার বিধান আছে। চেকে উল্লেখিত টাকা বাদী/ নালিশকারী পাবে। (আপোষ করা যায়)।
  11. আসামী দন্ডদানকারী আদালতে চেকে বর্নিত টাকার ৫০% জমাদিয়ে সংশ্লিষ্ঠ আদালতে আপীল করতে পারে।

Service of Processes through Police (পুলিশের মাধ্যমে প্রসেস জারী)

বাদী পক্ষে N.I. Act. এর মামলা দায়ের করার পর মাননীয় আদালত যখন আসামীর প্রতি সমন জারী করেন, অতঃপর আসামীর অনুপস্থিতিতে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন তখন অনেক সময় দেখা যায় যে দীর্ঘ দিনেও আসামী গ্রেফতার হয়না কিংবা মাননীয় আদালতে এসে আত্নসমর্পন পূর্বক জামিন নেয়না। এমতাবস্থায় বাদী পক্ষে নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবী ফৌজদারী কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান মোতাবেক WP&A এর আবেদন করলে মাননীয় আদালত তা'ও মন্জুর করেন। মাননীয় আদালতের এ আদেশ কার্যকর করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু দেখা যায় অনেক দিন অপেক্ষা করার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা কার্যর হয়না। তখন এ পর্যায়ে বিচারিক কার্যক্রম থেমে থাকে।

বিজ্ঞ আইনজীবী আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে Cr.PC এর ৩৩৯খ ধারার বিধান মোতাবেক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন করলেও মাননীয় আদালত তা মন্জুর না করে পূর্ববর্তী আদেশ তামিলের জন্যে তাগিদ দেন। এভাবেও অনেক দিন অতিবাহিত হতে থাকলে বেচারা বাদী হতাশ হয়ে কখনোবা পাওনা টাকার আশাই ছেড়ে দেন এবং মামলা পরিচালনায় অনিহা প্রকাশ করেন।

Criminal Rules and Orders এর তৃতীয় অধ্যায়ের ৬৫ বিধিতে উল্লেখ আছে "পুলিশের নিকট জারী বা কার্যকরের জন্য সকল প্রসেস আদালত কতৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জারী বা কার্যকর করতে হবে। . কোন পুলিশ কর্মকর্তা উক্ত প্রসেস জারী বা কার্যকর না করে কোন অবস্থাতেই নিজের নিকট রেখে দিতে পারবেন না। " ৬৬ বিধিতে উল্লেখ আছে ". ইচ্ছাকৃত বিলম্ব বা ব্যার্থতা. পুলিশ সুপার অথবা পুলিশ কমিশনার. কে অবহিত করবেন। . এবং আদালতের আদেশ পালনে যদি কোন অবহেলা পরিলক্ষিত হয়, তাহলে সংশ্লিস্ট পুলিশ কতৃপক্ষ কতৃক দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গৃহিত হবে."

প্রসেস জারী সংক্রান্তে পুলিশের অবহেলা আপাতঃ দৃষ্টিতে তুচ্ছ অপরাধ মনে হলেও বাস্তবিক পক্ষে এ কারনে অনেকেই ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আইন আদালতের প্রতি আশাকরি যেহেতু প্রচলিত আইনে এর প্রতিকার রয়েছে সেহেতু তা প্রতিফলন ঘটানো প্রয়োজন। তাহলে ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে অযথা বিলম্ব ঘটবেনা। সত্যিকার অর্থেই বিচারপ্রার্থী জনগন আইনের সুফল পাবে। প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাষন ও সুবিচার।

চেকের মামলা নিয়ে সমস্ত দেশ জুড়ে উদ্বেগী একটা তুঘলকি কাণ্ড ঘটেই চলেছে। ব্যাংক-অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ নেই জেনেও আসামি কর্তৃক প্রদেয় চেক অপর্যাপ্ত তহবিলের (insufficient fund) কারণে প্রত্যাখাত (dishonour) হওয়ার পর নোটিশ মারফত উহা সম্পর্কে অবগত হয়েও চেকে উল্লিখিত অর্থ পরিশোধ না করার ফলস্বরূপ যে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাতে ১৮৮১ ইংরেজি সনে প্রণীত Negotiable Instruments Act (সংক্ষেপে N. I. Act) এর ১৩৮ ধারা এখনো সদর্পে তার বিচারিক-ঝাণ্ডা উড়িয়ে চললেও কেবলমাত্র চেকে থাকা আসামির স্বাক্ষর প্রমাণ-নির্ভর প্রথাগত বাঁধা গৎ বিচার প্রক্রিয়ায় হরহামেশাই ঘটনাচক্রে চেকে স্বাক্ষরদাতা কত নিরীহ-নিরপরাধ ব্যক্তি যে অসহায়-আদালতি দণ্ডে দণ্ডিত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই।

এটা সংশ্লিষ্টগণের কারো অগোচর না হলেও বরাবরের মতো এখানেও কেবলমাত্র কড়া নাড়ার মধ্যেই আইনি সংস্কার বা সংশোধন আটকে আছে। এরই ফাঁকে 'বহুমুখী সমিতি' বা 'মাল্টি-পারপাস' নামধারী মহাজনি প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে ফাঁদে ফেলে জামানতস্বরূপ অলিখিত (blank) চেকে তার স্বাক্ষর নিয়ে উহাকে বগলদাবা করে নাকে তেল দিয়ে নিদ্রা যায় এবং পরে সময় ও সুযোগ বুঝে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইচ্ছেমতো ওই চেকে টাকার অংক ও তারিখ লিখে প্রবঞ্চিতের বেশে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রতিনিয়ত সফলকাম হতেই আছে।

এ-যদি এরূপে চলতেই থাকে এবং এতদ্বিষয়ক আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন অচিরেই না হয় কিংবা বিচারিক নজিরের (precedent) আশু-আবির্ভাব না ঘটে, তাহলে জামানতি বা অন্য কোনোমতে হাসিল করা এই তেলেসমাতি চেক যে বিচারিক দণ্ডযোগে স্বাক্ষরদাতার প্রাণবায়ু ওষ্ঠাগত করতঃ কারো কারো প্রাণপাতের নিমিত্তও হয়ে থাকবে, তাতে সমান আঘাতে দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদলেও যে এই নীরন্ধ্র বেষ্টনীর অচলায়তন ভাঙ্গবে না, তাতে কারো বিন্দুমাত্র সংশয় আছে কি?

হস্তান্তর যোগ্য দলিল আইন (N.I act) :

চেক স্বাক্ষরিত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ব্যাংকে দাখিল করতে হয়।
চেকটি ডিজঅনার হলে ব্যাংক থেকে ডিজঅনার স্লিপ নিতে হয়।
ডিজঅনার হওয়ার ৩০দিনের মধ্যে চেক দাতাকে ১৩৮ ধারায় লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করতে হবে।
নোটিশের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০দিনের মধ্যে সংস্লিষ্ঠ বিজ্ঞ আদালতে চেক দাতাকে আশাকরিয়া সি, আর মামলা দাখিল করতে হয়। আসামীর প্রতি সমন হয়। আসামী হাজির হয়ে জামিন চাইলে জামিন পাবেন। হাজির না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু হয়।

ADs by Techtunes ADs

পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। বাদীকে হাজিরা দিতে হয়। পরবর্তীতে দায়রা মামলা নামে দায়রাজজ আদালতে বিচার হয়।

প্রমাণ হলে আসামীকে ১বছর পর্যন্ত জেল, চেকে বর্ণিত টাকার ৩ গুন পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মনে রাখতে হবে সঠিক সময়মত চেক ব্যাংকে দাখিল, নোটিস প্রেরন, মামলা দাখিল করতে হবে। তানাহলে তামাদি দোষে মামলা পন্ড হবে। এই আইনে তামাদি মওকুফের কোন
সুযোগ নেই।

বার_কা্উন্সিলওজুডিশিয়ারী_ভাইভা_প্রস্ততি-১৪

N.I. Act চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত কতিপয় প্রশ্ন ও উত্তর

১। প্রশ্ন: চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত মামলার বিচারিক আদালত কোনটি?
উত্তরঃ দায়রা আদালত অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম
দায়রা জজ কর্তৃক বিচার্য। [ধারা ১৪১(গ)] ০৯-০২-২০০৬ ইং সনের সংশােধনীর পূর্বে বিচারিক আদালত ছিল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট।

২। প্রশ্নঃ N. Act এর চেক ডিসঅনার-সংক্রান্ত সংশােধনী কখন কখন হয়, উত্তর : প্রথম সংশােধনী আনা হয় ০৬-০৭-২০০০ইং তারিখে এবং সর্বশেষ সংশােধনী আনা হয় ০৯-০২-২০০৬ ইং তারিখে।

৩। প্রশ্ন : N.I. Act এর ১৩৮ ধারার মােকদ্দমা কোথায় কখন কীভাবে দায়ের করতে হবে?
উত্তর : ১৩৮ ধারা(১) মতে শর্ত পালন করার পর মামলার কারণ উৎপত্তি হওয়ার অর্থাৎ চেক প্রদানকারী নােটিশ পাওয়ার এক(১) মাস এর মধ্যে টাকা পরিশােধে ব্যর্থ হলে চেক গ্রহীতা পরবর্তী ১ মাসের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিত অভিযােগ দায়ের করতে পারেন। মনে রাখতে হবে মামলার কারণ উদ্ভব হয় চেক প্রদানকারী কর্তৃক নােটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন পর থেকে। উক্ত সময় থেকে ১ মাসের মধ্যে লিখিত অভিযােগ দায়ের করতে হবে। বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি বিচারের জন্য দায়রা জজের নিকট পাঠাবেন। দায়রা জজ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উক্ত মামলাটি অতিরিক্ত দায়রা জজ কিংবা যুগা দায়রা জজ
আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

৪। প্রশ্ন : চেকের টাকা আদাযের জন্য দেওয়ানী আদালতে মােকদ্দমা করা। যাবে কী?
উত্তর: N. Act এর ১৩৮(৩) এর বিধান মােতাবেক অর্থদণ্ড হিসাবে আদায়কৃত টাকা হতে চেকের গায়ে সমুদয় টাকা যদি চেকের। গ্রহীতা বা ধারককে প্রদান করা হয় তবে চেকের গ্রহীতা বা ধারক দেওয়ানী আদালতে মােকদ্দমা করতে পারবেন না। কিন্তু চেকের টাকা পরিশােধ না করা হলে বা আংশিক পরিশােধ করা। হলেও উক্ত চেকের সমুদয় বা অবশিষ্ট টাকা আদায়ের জন্য। চেকের যথানিয়মের ধারক দেওয়ানী আদালতে টাকার মােকদ্দমা করতে পারিবেন।

৫। প্রশ্ন : ১৩৮ ধারার চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত অপরাধ আপােসযােগ্য কিনা?

উত্তর : মহামান্য উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তমতে বর্তমানে আপােসযােগ্য। (14 BLC 384, 29 BLD 684)।

৬। প্রশ্ন: অ্যাকাউন্ট ক্লোজ মন্তব্যসহ চেক ফেরত কি?
উত্তর : অ্যাকাউন্ট ক্লোজ মন্তব্যসহ চেক ফেরত আসলেও তা ১৩৮ ধারার অপরাধ হবে। [20 BLC, 488]।

ADs by Techtunes ADs

৭। প্রশ্ন: ৬ মাসের মধ্যে চেক ব্যাংকে উপস্থাপন না করলে কী হবে?
উত্তর : N.T. Act এর ১৩৮ ধারা মােতাবেক চেক ইস্যর তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে উহা ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় ১৩৮ ধারা মােতাবেক চেক ডিসঅনারের অপরাধ সংঘটিত হবে না (56 DLR. 636)। তবে চেক ইস্যুকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেকের যথানিয়মের ধারক ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা করতে পারবে।

৮। প্রশ্ন: এই চেক ডিসঅনারের মামলার স্থানীয় অধিক্ষেত্র কি?
উত্তর : সাধারণত যে ব্যাংকে চেক উপস্থাপন করা হয় সেই ব্যাংক যে আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রে অবস্থিত সেই আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে) ১৩৮ ধারার মামলা দায়ের করতে হবে। তবে উচ্চ। আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মতে উক্ত চেক সংক্রান্ত অপরাধ মােট ৫টি ক্ষেত্রের স্থানে হতে পারে, তার যে কোন একটি স্থানে ফরিয়াদি এই চেকের মামলা দায়ের করতে পারবেন এবং উক্ত ৫টি ক্ষেত্রে যে কোন স্থানে এই চেকের মামলার বিচার হতে পারবে। [59 DLR, 236]।

৯। প্রশ্নঃ চেক ডিসঅনারের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় মামলা চলে কি?
উত্তর : হস্তান্তরযােগ্য N.T. Act এর ১৩৮ ধারার অপরাধ এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অপরাধ এক নয়, একটি অপরাধ অপরটিতে থেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র। কাজেই চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত প্রতারণার জন্য দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার মামলা চলতে বাধা নাই। [55 DLR, 200 এবং 54 DLR, 445]।

১০। প্রশ্ন: চেকের মাধ্যমে কর্জ দেওয়া হলে কত সময় এর মধ্যে দেওয়ানী আদালতে মােকদ্দমা করতে হবে?
উত্তর: তামাদি আইনের ৫৮ অনুচ্ছেদ মােতাবেক চেক ভাঙ্গার তারিখ।
হতে ৩ বৎসর এর মধ্যে উক্ত কর্জের টাকা আদায়ের জন্য টাকার মােকদ্দমা করতে হবে।

১১। প্রশ্ন: ফান্ডের অপর্যাপ্ততার কারণে চেক ডিসঅনার না হয়ে অন্য কারণে ডিসঅনার হলে ১৩৮ ধারার অপরাধ সংঘটিত হবে কিনা?

উত্তর: ১৩৮ ধারায় বর্ণিত ফান্ডের অপর্যাপ্ততার কারণে চেক ডিসঅনার না হয়ে অন্য কোন কারণে ডিসঅনার হলেও তা ১৩৮ ধারার অপরাধ হবে।

১২। প্রশ্নঃ চেক একাধিকবার দাখিল করা হলেও অপরাধের জন্য কোন মামলা কতবার হবে?

উত্তর : চেকের ধারক বা প্রাপক চেকের বৈধ মেয়াদের মধ্যে যতবার খুশি ততবার চেক ব্যাংকে উপস্থাপন করতে পারবেন এবং তার ইচ্ছানুযায়ী চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত অত্র আইনের ১৩৮ ধারার অপরাধের জন্য মামলা দায়ের করতে পারবেন। তবে তিনি একটি চেকের ব্যাপারে ১৩৮ ধারায় একটিই মামলা করতে পারবেন। [8 BLC, 442]

১৩। প্রশ্ন: NI. Act এর ১৩৮ ধারার মামলা জামিনযােগ্য কিনা?
উত্তর: N.I. Act এ জামিন বিষয়ে কিছু বলা থাকলে ডিসঅনারের মামলা জামিনযােগ্য, যেহেতু এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

১৪। প্রশ্নঃ অভিযােগকারীর মৃত্যু হলে চেক ডিসঅনারের মামলা চলবে কিনা?

ADs by Techtunes ADs

উত্তর : মহামান্য উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মতে মামলা চলাকালীন সমত চেকের যথানিয়মের ধারক অর্থাৎ অভিযােগকারীর মত্য হলে উক্ত মামলা Abate হবে না। উক্ত অভিযােগকারীর বৈধ উত্তরাধিকারী মামলা পরিচালনা করতে পারবেন।

১৫। প্রশ্নঃ চেক গ্রহীতার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ১৩৮ ধারার মামলা দায়ের করতে পারে কিনা?
উত্তর : মহামান্য উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মতে চেক গ্রহীতার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ১৩৮ ধারার মামলা দায়ের করতে পারবে। [56 DLR (AD), 17]

১৬। প্রশ্নঃ চেকের টাকার জন্য দেওয়ানী মােকদ্দমা চলমান থাকা সত্তেও ফৌজদারী মামলা চলবে কিনা?
উত্তর : মহামান্য উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মতে দেওয়ানী মােকদ্দমা চলমান থাকলেও ফৌজদারী মামলা স্বতন্ত্র গতিতে চলবে। [55 DLR (AD), 62]

১৭। প্রশ্ন : কেবলমাত্র চেক ডিসঅনার হলেই মামলার কারণ উদ্ভব হবে কী?
উত্তর : শুধুমাত্র চেক ডিসঅনার হলেই মামলার কারণ উদ্ভব হয় না। চেক প্রদানকারীকে নােটিশ প্রেরণের পর তা প্রাপ্তির ৩০দিনের মধ্যে চেক প্রদানকারী চেকের টাকা চেকের যথানিয়মের ধারককে প্রদান করতে ব্যর্থ হলে মামলার কারণ উদ্ভব হয়।

১৮। প্রশ্ন : কয়টি উপায়ে ১৩৮ ধারায় চেক ডিসঅনার সম্পর্কিত নােটিশ প্রদান করা যায়?
উত্তর : ৩টি উপায়ে।

১৯। প্রশ্ন : চেক ডিজঅনারের মামলায় আপীল সংক্রান্ত বিধান কি?
উত্তর : এই আইনে কোথায় আপীল হবে সে সম্পর্কে কিছু বলা নাই। তাই ফৌজদারী কার্যবিধি আপীলের বিধান প্রযােজ্য হবে। অর্থাৎ যুগদায়রা জজ কর্তৃক বিচার হলে ৩০ দিনের মধ্যে দায়রা জজের। নিকট আপীল হবে। এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ দায়রা জজ কর্তক বিচার হলে ৬০ দিনের মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগে আপা। করতে হবে। (ধারা ১৩৮] যেহেতু কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ১ বছর পযর্ন্ত।

Extra Information:

  • ১. N.T. Act এর মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সাম্প্রতিক Reported। case [68 DLR, 228]।
  • ২. N.I. Act এর অধীনের মামলা থানায় দায়ের করা যায় না।
  • ৩. N.T. Act এর মামলা থেকে উদ্ভুত কোন আইনগত বিষয়ে দায়রা জজ হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়।
  • ৪. অর্থদন্ড হিসেবে আদায়কত অর্থ থেকে চেকে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থ চেকের বাহককে প্রদান করা হবে।

ADs by Techtunes ADs
Level 4

আমি Solicitor Shoaib Ali। Founder & Chairman, The Income Tax Professionals, Dhaka। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 93 টি টিউন ও 0 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 5 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস