ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

আমি বাঁচতে চাই! সামান্য একটা জেব্রা ক্রসিং চাই…

সড়ক দূর্ঘটনা এখন যেন আমাদের কাছে নিত্যদিনের সংবাদ। প্রতিদিনই আমরা খবরে কাগজে কিংবা টিভি চ্যানেলে এরকম খবর দেখে থাকি। কিন্তু অন্যসব খবরের মতই আমরা এসব খবরকে তেমন পাত্তা দেই না। কারণ দূর্ঘটনাগুল আমাদের আপনজনের কারো নয়। আমাদের টনক তখনই নড়ে যখন আমাদের আপন কেউ ঐ দূর্ঘটনায় পতিত হয়। অর্থাৎ আমরা অন্যের বিষয় নিয়ে মাথাটা একটু কমই ঘামাই। আসলে এটাই বাস্তবতা। যাই হোক, বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ফলে যে দুর্ঘটনা হয় তা দেশে মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হওয়ার বিষয়টা কেউ একেবারেই মানতে চায় না। অনেকে হয়তো বলতে পারেন যে ওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হলেই তো ঝামেলা চুকে যায়। কিন্তু বিপত্তিটা সেখানেই! আজকে আমি মোটামুটি কিছুটা ক্ষোভের সাথেই কিছু কথা লিখব...
যেখানের কথা বলছি; যায়গাটা গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত নাম কলেজগেট। অন্যতম ব্যস্ততম শহর। এখানেই বাংলাদেশের বিখ্যাত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্কুল কলেজ অবস্থিত। শিক্ষা নগরীই বলা হয় একে। টঙ্গী কলেজ, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী, সিরাজউদ্দিন, পাইলট সহ কিছু বড় বড় মার্কেট, ব্যাংক ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অবস্থিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের প্রায় ১ কিমি রাস্তা এই এলাকার পাশ দিয়ে গিয়েছে। এইবার একটা ক্ষুদ্র পরিসংখ্যান দেখাব যা শুনে সবাই হতবাক হতে বাধ্য। অ-লিখিতভাবে গত ১০ বছরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের কলেজগেটের এই যায়গাটায় প্রায় ৫০ এরও অধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে যার সবগুলোই রোড ক্রসিং এর সময়ে ঘটা। এর মধ্যে ১৫ এরও অধিক মারা গিয়েছে আর বাকিদের অবস্থাও কেউ পঙ্গু অথবা একেবারেই শোচনীয়। গত বছর ২০১৪ সালের জুন মাসের দিকে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমীর দুই ছাত্রী এখানেই রাস্তা পার হতে গিয়ে একেবারেই পঙ্গু হয়ে যায়; তাদের চাপা দিয়ে চলে যায় একটি লেগুনা গাড়ি। কিছুদিন পরেই পাইলট স্কুলের এক ছাত্রের স্পট ডেথ হয় রাস্তা পার হতে গিয়ে। এভাবে এর পর আরও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকে। কিন্তু আমাদের জন্য আপাতত সবথেকে মর্মান্তিক আর দুঃখজনক যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি হল আমাদের মেধাবী বন্ধু মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সড়ক দুর্ঘটনার অকাল মৃত্যু। ২০১৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জাকির সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী থেকে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ন হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে সে নটরডেম কলেজে পড়ার সুযোগ পায়। এই অসাধারণ মেধাবী ছেলেটি ঈদের ছুটি কাটিয়ে ২২ জুলাই,২০১৫ তারিখে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালবেলা রউনা হয়। কিন্তু তার ভাগ্য তাকে আর কলেজে ক্লাস করার সুযোগ দেয় না। কলেজগেটের ঐ একই যায়গাটাতে রাস্তা পার হতে গিয়ে বসুমতী নামক গাড়ির ধাক্কায় জঘণ্যভাবে প্রাণ হারায়। তবুও তার বন্ধুরা আশা রাখে তাকে বাঁচাবার। কিন্তু ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও তার শেষ রক্ষা হয় না। সে চলে যায় না ফেরার দেশে। এভাবেই এই শিক্ষা নগরীতে দেশের অসংখ্য ছেলেমেয়ে কেবল সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়। ঐদিনই দুপুর ১.৩০ মিনিটে দুইজন সেখানে দুর্ঘটনার স্বীকার হয় যার মধ্যে একজন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং তারও স্পট ডেথ হয় আর অন্যজনের অবস্থাও ভাল নয়।
এখন সবাই হয়তো ফুট ওভার ব্রিজ অথবা জেব্রা ক্রসিং এর কথা ভাবছেন। তবে দুঃখজনক হলেও এটা সত্য যে এর আশেপাশে প্রায় ২ থেকে ২.৫ কিলোমিটারের মধ্যে কোন জেব্রা ক্রসিং তো দূরের কথা একটা ফুট ওভার ব্রিজও নেই। বিগত ১০ টা বছর এখানে এভাবেই অকালে মানুষ প্রাণ দিচ্ছে কেবল সামান্য ফুট ওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং এর জন্য। এতদিন আমরা তেমন উচ্চবাচ্য তুলিনি। অবশ্য যে একেবারেও কিছু বলা হয় নি তা নয়। প্রতিবারই আমরা কেবল পেয়েছি মিথ্যা আশ্বাস। গত বছর এই এলাকাটি পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনের আওয়তায় আসে। আর তারপরই আরও দুর্ঘটনা ঘটে ঠিক আমাদের গাজীপুরের নগর ভবনের সামনেই যা একেবারেই মেনে যায় না। এটা গ্রামের কোন প্রত্যন্ত অঞ্চল নয় বরং শিক্ষা নগরী। দেশের অনেক ভবিষ্যৎ এর উপর নির্ভর করছে। আজকের এই জাকির যে আগামীর অমর্ত্য সেন ছিল না তার কি গ্যারান্টি! আমাদের দেশের জন্য এসব অপূরণীয় ক্ষতি। গতবছরে সড়ক দূর্গটনায় রুদবা নামক এক মেয়ের পঙ্গু হয়ে যাবার পর তীব্র আন্দোলন করা হয়, অনশন করা হয়। আমাদের এমপি সাহেব এসে ফুট ওভার ব্রিজের আশ্বাস দিয়ে যায়। কিন্তু এসবই ছিল ফাকা। আমরা কেবল পাই একটি অপরিকল্পিত আর অস্থায়ী স্পীড ব্রেকার যাতে পরদিনই একটি সিএনজি উলটে যাওয়ার ঘটনা ধরে রাতেই সেটা তুলে নেয়া হয়। এই যায়গাটায় ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তা নিয়মিত না আর তেমন কাজেও আসে না। এবার জাকিরের মৃত্যুর পর আমরা মানববন্ধন করতে চাইলেও পুলিশ আমাদের তাতে বাধা দেয়। আমাদের দাবি মেনে নেয়া হয় না। তারা এখন বলছে এই রাস্তাটা নাকি ফোর লেন অথবা ফ্লাই ওভার করা হবে। এখানে নাকি আন্ডার-পাস করার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এইটা-তো পাশ হলো এই সেদিন সংসদে। কিন্তু তার আগের ৯ টি বছর এখানে কি হবার কথা ছিল? যাই হোক, আমরা পুরনো কথা আর আনতে চাই না। যা হবার তা হয়েই গিয়েছে। এখন চিন্তা ভবিষ্যতের। আকাশের চাঁদ পাওয়া যে অসম্ভব আমরা সেটা জানি। একটা ফুট ওভার ব্রিজও এখানে তেমন আকাশের চাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা এখন অন্তত এখানে জেব্রা ক্রসিং সহ স্পীড ব্রেকার চাই। তবে সেটা যেন কোন অস্থায়ী বিষয় না হয়, রীতিমত এয়ারপোর্টের সামনের রাস্তার মত করে এখানে ছোট ছোট ব্রেকার দিয়ে পরে বড় একটি ব্রেকার ও শেষে জেব্রা ক্রসিং চাই। আর কোন সড়ক দুর্ঘটনার কথা আমরা শুনতে চাই না, চাই না কারো অকাল মৃত্যুর সংবাদ। চোখের সামনে হারাতে চাই না আর কোন বন্ধু বা যেকোনো কাউকে...
আমরা এখন আর গরীব দেশ নই। আমরা নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। এখানে সামান্য ফুট ওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং এর জন্য আন্দোলন মোটেও মানায় না। অনেকে হয়তো বলতে পারেন যে ফুট ওভার ব্রিজের পরিবর্তে জেব্রা ক্রসিং যানজট বাড়ায়। আপনারই অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, উন্নত দেশগুলোয় কোন আকাশচুম্বী ফুট ওভার ব্রিজ দেখা যায় না। সেখানে সবাই জেব্রা ক্রসিং দিয়েই রাস্তা পারাপার হয়। সেখানের রাস্তায় কিন্তু আমাদের দেশের থেকেও অনেক দ্রুতগামী গাড়ি চলা ফেরা করে।
আমার এতগুলো বাক্য লেখার একটা কারণ আছে। আসলে আমরা দুনিয়ার সবাই স্বার্থপর। আপনজনের কিছু না হলে আমরা তেমন মাথা ঘামাই না। আমরা সর্বদা নিজের চিন্তা নিয়েই থাকি। আমার এই দাবিটাও আমার নিজের জন্যেই। জাকিরতো চলেই গিয়েছে। আরও অনেকেই চলে গিয়েছে। গত বছর মে মাসে আমার নিজেরও সড়ক দুর্ঘটনা হয়। বলতে গেলে কেবল টাকার জোরে আর ভাগ্যের জন্যই বেচে যাই। কিন্তু হারাই শরীরের একটা অঙ্গ। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থ হই। আমি বুঝি সড়ক দুর্ঘটনা কত ভয়ংকর কারণ সেখান থেকে আমি মরতে মরতে বেচে যাই। সে যাই হোক, কলেজগেটের এই যায়গাটা দিয়ে আমারও যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াত করতে হয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, সরকারি কর্মকর্তা সহ সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষকে। প্রশাসনের কাছে তাদের জীবনের কোন মূল্য না থাকলেও প্রত্যেকের কাছে নিজ জীবনের মূল্য সবথেকে বেশি।
এতকথা খরচ করেছি কেবল একটা জেব্রা ক্রসিং এর জন্য। আমার এই লেখাটি প্রশাসনের কাছে পৌঁছাবে কিনা জানি না। যদি কোন ভাবে পৌছায় তাহলে তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ যতদ্রুত সম্ভব এখানে একটা জেব্রা ক্রসিং এর ব্যবস্থা করুন। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমরা আমাদের কথাটা পৌছাতে ব্যর্থ। তাই এই সাইবার মাধ্যম বেছে নেওয়া। আশা করি আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত জেব্রা ক্রসিংটা পাব আর বাঁচবে অনেক মানুষ ও দেশের ভবিষ্যৎ...

ADs by Techtunes ADs

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি, "আমরা বাঁচতে চাই, বাঁচাতে চাই"। দয়া করে আমাদেরকে আর মারবেন না। এই যায়গাটায় একটা জেব্রা ক্রসিং দিয়ে আমাদেরকে ভবিষ্যৎ মৃত্যু থেকে বাঁচতে দিন। দয়া করুন আমাদের প্রতি। আপনাদের হাতেই এখন আমাদের জীবন নির্ভর করে আছে। যেখানে আমরা জেব্রা ক্রসিং চাই তার গুগল ম্যাপ লিংক এখানে

আমাদের এই দাবিটা হয়তো সরকার সহজে মেনে নিবে না। তাই আমরা একটা সাধারণ জনমত গঠনের চেষ্টা করছি। আমরা ইতিমধ্যে বিয়ারটিএ, সড়ক জনপথ ও ব্রিজ মন্ত্রণালয়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও গাজীপুর আসনের এমপি মহাদয়কে ইমেইলের মাধ্যমে ব্যাপারটা অবগত করেছি। তারা হয়তো মেইল চেক করবে না বা করলেও গুরুত্ব দিবে কিনা যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। তাই আমরা চাচ্ছি এই লেখাটি প্রচুর শেয়ার করা হোক। টেকটিউনসের ৩ কোটি+ পরবারের মধ্যেও কেবল এই টিউনটা শেয়ার করা হলে যথেষ্ঠ হবে বলে মনে করি। আমাদের মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। যত বেশি মেইল আমরা পাব জেব্রা ক্রসিংটা পেতে আমাদের তত বেশি সুবিধা হবে। আশা করি আপনারা সবাই আমাকে সাহায্য করবেন।

 

বি.দ্রঃ প্রথমেই আমি আমার ধৃষ্টতার জন্য টেকটিউনস কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি জানি যে, আমি টিটির নিয়ম বহির্ভূত টিউন করেছি। আমার মনে হয়েছে এই বার্তাটা সবার কাছে পৌছানোর জন্য টিটির থেকে ভালো কোন মাধ্যম হবে না। তবে সম্মানিত এডমিনগণের কাছে আমার একটা অনুরোধ যেন, অন্তত আগামী ৭ দিনের মধ্যে টিউনটা যেন ডিলিট করা না হয়। তাহলে কৃতজ্ঞ হব। 

ADs by Techtunes ADs
Level 0

আমি কামরুজ্জামান ইমন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 5 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 33 টি টিউন ও 124 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

বিজ্ঞানকে ভালবাসি। চাই দেশে বিজ্ঞান চর্চা হোক। দেশের ঘরে ঘরে যেন বিজ্ঞান চর্চা হয় সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ধন্যবাদ আপনাকে ভাই খুব গুরুত্বপুর্ণ একটা পোষ্ট লিখেছেন আপনি।আমিও ভাবছিলাম আজ টেকটিউনসে লিখব এই বিষয়ে।ভাল লাগছে আপনি আজ লিখেছেন দেখে !! জাকির আমার চাচাতো ভাইয়ের খালাতো ভাই,তার মৃত্যুটা আমাকে অবাগ করে দেয়। মানুষ কিভাবে এত নির্মম হতে পারে…।।আল্লাহ যেন জাকির কে জান্নাত বাসী করে এই দোয়া করি।