ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

মহাশক্তিশালী থরের সেই অদ্ভুত হাতুড়ি

মার্ভেল ইউনিভার্সের মুভিগুলো কে কে দেখেন? এই কথা জিজ্ঞেস করলে সম্ভবত কেউ আর ‘না’ শব্দটি উচ্চারণ করবে না। অনেকেই আছেন আবার মার্ভেল ইউনিভার্সের কথা বললে একেবারেই পাগল! আর হবেনই না বা কেন? দারুণ দারুণ সব সুপার হিরো আর বিজ্ঞানের চমৎকার ব্যবহার ছবিগুলোকে যেন আরো বেশি জনপ্রিয়তা পাইয়ে দিয়েছে। তো যাই হোক, আজ আমরা মার্ভেল ইউনিভার্সের এক সুপার হিরোর কথা বলব। যার কথা বলব সে আমার সবথেকে প্রিয়। অনেকেই হয়ত আয়রন ম্যান বা হাল্কের কথা মনে করবেন। আসলে সেটা না। আজ আমরা মহাশক্তিশালী (কমিকস অনুযায়ী) থরের গুণগান গাইব। আসলে মূলত থর না, আমরা কথা বলব থরের সেই বিখ্যাত হাতুড়ি “মিজলনি” নিয়ে।

ADs by Techtunes ADs


নর্স মিথোলজি মতে নর্সের গড ছেলের উপর খুশি হয়ে তার ছেলেকে একটা হাতুড়ি উপহার দেয়। এই হাতুড়ি তার ছেলে থর ছাড়া আর কেউ উঠাতে পারবে না, এরকমই ছিল নর্সের হুকুম। তো, থরের সেই হাতুড়ি তৈরি করা হয়েছিল একটি মৃত নক্ষত্র বা নিউট্রন স্টারের পদার্থ থেকে। আরেকটি কমিকসে বলা হয়েছে যে এই হাতুড়ি এমন এক পদার্থ থেকে বানানো হয়েছে যার নাম “উরু” এবং এটি কেবল এসগার্ডে পাওয়া যায়। যাই হোক, মুভিতে নিউট্রন স্টারের কথাই দেখানো হয়েছে। এখন আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে হিসেব করব সেই হাতুড়ির ভর আর একটু দেখব যে সেটা যদি কোনভাবে পৃথিবীতে পরে তাহলে এর অবস্থা কেমন হবে!


কোন নক্ষত্রের ভর যখন সূর্য অপেক্ষা ৬ থেকে ১০ গুণ বেশি হয় তখন সেটি সুপারনোভার মাধ্যমে নিউট্রন স্টারে রূপ ধারণ করে। একটি নিউট্রন স্টারের ভর সূর্য অপেক্ষা ২-৩ গুণ বেশি হয় কিন্তু এর ব্যাস হয় খুবই কম; মাত্র ১২-১৩ কিলোমিটার। তাই নিউট্রন স্টারের আয়তনের খুবই সামান্য পরিমাণের ভর হবে বিশাল। হিসেব মতে নিউট্রন স্টারের পদার্থের আয়তন যদি একটি চিনির স্ফটিকের সমান হয়ে থাকে তাহলে এর ভর হবে পৃথিবীর সকল মানুষের ভরের সমান! এবার তাহলে হিসেব করা যাক থরের হাতুড়ির ওজন।


থরের হাতুড়ি দৈর্ঘ্যে ৮.৫ ইঞ্চি, প্রস্থে ৫.৫ ইঞ্চি আর উচ্চতায়ও ৫.৫ ইঞ্চি ছিল। এখন এই আকারের হাতুড়ি যদি নিউট্রন স্টারের পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয় তবে এর ভর হবে ১০^২৪ পাউন্ড বা ৪, ৬৩৪, ৮৫০, ০০০, ০০০, ০০০ কেজি। আর এটি যদি কোন ভাবে পৃথিবীতে পরে তাহলে এর অবস্থাটা কেমন হবে একবার ভাবুন তো! ভাবার জন্য একটু সহজ করে দেই। যদি এটি পৃথিবীতে পরে তাহলে এর অবস্থাটা হবে এই পর্যন্ত পৃথিবীতে সবথেকে বড় নিউক্লিয়ার বোমা থেকেও ১.৩ বিলিয়ন গুণ বেশি ধ্বংসাত্মক।

এখন আসি এই হাতুড়ি উঠানোর কথায়। এক কথায় সেটা অসম্ভব! কেউই এই হাতুড়ি কোনদিনই উঠাতে পারবে না তা যত উন্নতমানের প্রযুক্তিই আসুক না কেন। আমরা জানি যে মহাবিশ্বের দুইটি বস্তুর একটি অপরটিকে আকর্ষণ করে। সেই ক্ষেত্রে এই হাতুড়ির প্রচণ্ড ভরও সবকিছুকে আকর্ষণ করবে। আপনি যদি এই হাতুড়ির ১০০ ফিট দূরে থাকেন তাহলে এটি আপনাকে ৩৩৩ মিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে এই হাতুড়ির দিকে আকর্ষণ করবে। আর পৃথিবীতে এই হাতুড়িটা পরলে এটি একেবারে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। যার ফলে পুরো পৃথিবী একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এই ধরনের কোন হাতুড়ির অস্তিত্ব কল্পনা করাও হবে ভয়ঙ্কর যদিও সাই-ফাই মুভিতে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক ভুল হরহামেশাই ঘটে থাকে। আসলে এরকম না করলেত আর সাই-ফাই হয় না!

লেখাটি পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে http://alokbortika.org/ র ওয়েবসাইট ও মাসিক বিজ্ঞান পত্রিকায়। 

ওমেগা প্রাইম এর ফেসবুক পেজফেসবুক গ্রুপ

বিজ্ঞানবর্তিকা

ADs by Techtunes ADs

কিছু কথা-

ওমেগা প্রাইম সারাদেশে বিজ্ঞান চর্চা বৃদ্ধি করার জন্যে নানারকম স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। তারা সারাদেশে '৮৬ হাজার গ্রাম ৮৬ হাজার বিজ্ঞান ক্লাব' স্লোগানে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ক্লাব আন্দোলন করছে। পাশাপাশি বিজ্ঞানের উপর বিভিন্ন সেমিনার, ক্যাম্প, কুইজ, পত্রিকা প্রকাশ ইত্যাদি করে যাচ্ছে।
ওমেগা প্রাইমের এই আন্দোলনে সাহায্য করতে চাইলে আপনি নিজে এবং আপনার বন্ধুদেরকে ওমেগা প্রাইমের পেজ ও গ্রুপে যুক্ত করে সাহায্য করতে পারেন।
একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়ে তোলাই ওমেগা প্রাইমের লক্ষ্য.

ADs by Techtunes ADs
Level 0

আমি কামরুজ্জামান ইমন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 5 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 33 টি টিউন ও 124 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 2 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

বিজ্ঞানকে ভালবাসি। চাই দেশে বিজ্ঞান চর্চা হোক। দেশের ঘরে ঘরে যেন বিজ্ঞান চর্চা হয় সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

ভাই এই ক্ষুদ্র জিনিস মাটি ভেদ করে গেলে . . . . . এটা কি পৃথীবির উপর কোন প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে ।

    জিনিসটা ক্ষুদ্র, কিন্তু এর ওজন আর গতির কারণে প্রচন্ড প্রভাব ফেলবে। আমাদের পৃথিবীতে এর আগে যত গ্রাহাণু আছড়ে পরেছে সেগুলো কিন্তু আকারে ক্ষুদ্রই ছিল। তবুও সেগুলো বিশাল ধ্বংস সাধিত করেছে।
    আশা করি উত্তর পেয়েছেন 🙂

নতুন কিছু জানলাম

    আমার কাজই মানুষকে বিজ্ঞানের নতুন স্বাদ দেওয়া।
    কমেন্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 🙂

অনেকদিন পর অন্য রকম টিউন এর স্বাদ পেলাম

Level 0

Thanks for a different kind of tune..

chaliye jaaan…keep posting

nice tune. keep it up.

@ ইমন ভাই > ইংরেজিতে আমার এলার্জি আছে, অনেক আগেই এই সিরিজের দুইটা মুভি দেখেছি, মনে করেছিলাম এলিয়েন দের গল্প নিয়ে মুভি, তবে হাতুড়ির বিষয়টা আজকে পরিষ্কার হলো।

    ইংরেজিতে অ্যালার্জিতে সমস্যা নেই। বাংলা ক্লিয়ার হলেই অকা। হাতুড়ির ব্যাপারটা পরিষ্কার করতে পারায় সক্ষম হওয়ায় আপনাকে ধন্যযোগ 🙂

খুব সুন্দর বিজ্ঞানময় টিউন। অনেক ভাল লাগল।