ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

স্মার্টফোনেই ফটোর উপর বাংলা লিখুন বিভিন্ন ইউনিকোড ফন্টে!

বাংলা লেখা নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত অনেক আগে থেকেই। বিজয় কি-বোর্ডে লেখার সময় মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান না থাকায় অনেকেই ‘বরাবর’ লিখলে তা ‘ঊরাবর’ হয়ে যেতো। তারপরও কষ্ট করে ঠিকঠাক করে সবাই লিখতেন। আবার বিজয়ের অসংখ্য ফন্ট ছিল। যেমন: SutonnyMJ, ShurmaMJ, KarnaphuliMJ, DhakarChithiMJ ইত্যাদি। মূলত বিজয় সফটওয়্যারটি ছিল এক ধরনের বর্ণ রুপান্তরক। বিভিন্ন ফন্টের কারণে তা বাংলায় রুপান্তর করে লেখা সম্ভব হতো। ফন্ট সিলেক্ট না করলে অনেক হিজিবিজি হিজিবিজি লেখা আসতো। এমনকি পি ডি এফ-য়ে রুপান্তর করলেও তা অনেক সময় ফন্টের কারণে বোঝা যেতো না। অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। এমনিভাবেই চলছিল বেশ কিছু সময়। সমস্যাগুলো মেনে নিয়েই সবাই ব্যবহার করতো। তবে গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা বেশ সুবিধা পেয়েছিল বিজয়ের কারণে। তারা খুব সহজেই ফটোশপে কোনো ফটোর উপর বিভিন্ন ফন্টে বাংলা লিখতে পারতো। তাই অসুবিধা আংশিক থাকলেও এদিক দিয়ে বিজয় বেশ সফলতা পেয়েছিল।

ADs by Techtunes ADs

কিন্তু বিজয় দিয়ে ইন্টারনেটে বাংলা লেখা সম্ভব ছিল না। সঙ্গত কারণেই নতুন ধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ টাইপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আবির্ভাব হয় অভ্র কি-বোর্ডের। এতদিন ধরে চলে আসা বিজয়ের কি-বোর্ড ম্যাপিং-য়ে দেশের লোকজন অভ্যস্ত হওয়ায় অভ্র কি-বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা মেহদী হাসান তার অভ্র কি-বোর্ডে ইউনিবিজয় লে-আউট চালু করেন। যাতে করে সবাই আগের অভ্যাসেই অভ্র দিয়ে ইন্টারনেটে লিখতে পারে। কিন্তু বিজয় কি-বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা জব্বার সাহেব তার লেআউট কপি করার দায়ে মেহদী হাসানের বিরুদ্ধে কপিরাইট মামলা করেন। মামলায় শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়ে মেহদী হাসান তার অভ্র কি-বোর্ডের পরবর্তী ভার্সনে ইউনিবিজয় লে-আউট তুলে দেন। অবশ্য এ ঘটনার পর মোস্তফা জব্বার সারা দেশেই সমালোচিত হন।

তবে এবার আবার সমস্যা হয় গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের। তারা বিজয়ে খুব সহজেই ফটোশপে বিভিন্ন ধরনের বাংলা লিখতে পারতো। কিন্তু অভ্র কি-বোর্ডে তারা ফটোশপে বিভিন্ন ফন্টে বাংলা লিখতে পারতো না। এমনকি ফটোশপের বিভিন্ন ভার্সনে অভ্র কি-বোর্ড দিয়ে লেখা সাপোর্টই করতো না। তাই অভ্র কি-বোর্ড এই গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা ব্যবহার করতে চাইতো না।

এ তো গেল ইতিহাস। এবার আসি মূল কথায়।

অভ্র কি-বোর্ড লোকজন ব্যবহার করতে চাইতো না আরো একটি কারণে। ডিফল্ট ফোনেটিক লে-আউটে টাইপ করা বেশ বড় একটা সমস্যা। এমনকি বানান ভুল হবার খুব বেশি সম্ভাবনা থাকে। এমনকি বাংলা ব্যাকরণের সাথেও কোনো সম্পর্ক থাকে না। তবে ইন্টারনেটে লেখার ক্ষেত্রে কষ্ট করে ওভাবেই লিখতে হতো। কিন্তু গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে তারা বিজয়ই ব্যবহার করতো। এমনকি এখনও করে।

আমরা যখন বিজয়ে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম তখন সেই SutonnyMJ ফন্টটা ছাড়া কেনো জানি চোখে কিছু ধরতো না। আর অভ্রতে ডিফল্ট যে ফন্টটি থাকে সেটি হলো Vrinda। এর অক্ষরগুলো কেমন ভাঙা ভাঙা। এ কারণেও অনেকে অভ্রতে টাইপ পর্যন্ত করতে চাইতো না। কিন্তু তারা জানে না যে অভ্রতেও সেই SutonnyMJ’র মতো ঝকঝকে তকতকে অক্ষর লেখা যায় SolaimanLipi নামক ইউনিকোড ফন্টটি দিয়ে।

 

এবার আসি মূল বক্তব্যে। বিজয়ের মতো অতো বেশি ফন্টের বৈচিত্রতা নেই হয়তো ইউনিকোডে, কিন্তু ইউনিকোডেও বিভিন্ন ফন্টে আপনি লিখতে পারবেন। আর সেটা করার জন্য আপনাকে পিসি চালু করতে হবে না। আপনার স্মার্টফোনের সাহায্যেই আপনি সেটা করতে পারবেন। তো এর জন্য আপনাকে যা যা করতে হবে তা আপনি নিচে তুলে ধরছি।

  • আগেই বলেছি। ইউনিকোডেরও অনেক ফন্ট আছে। তো সেগুলো পাবেন কোথায়? হ্যাঁ। ফন্টগুলো ডাউনলোডের জন্য নিচের লিংক-এ যান। ফটোর মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছি কোথায় ক্লিক করে ডাউনলোড করতে হবে।

|Download Unicode Fonts|

ADs by Techtunes ADs

  • এবার স্মার্টফোনে যে অ্যাপের সাহায্যে ফটোর কাজটি করবেন সেই অ্যাপ ডাউনলোডের পালা। অ্যাপটির নাম হলো Phonto। নিচের লিংক থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন। অথবা প্লে-স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিন। উভয় লিংকই দিলাম।

| Download Phonto |  অথবা | Phonto on Playstore |

  • অ্যাপটি ইন্সটল করার পর আপনার ডিভাইস স্টোরেজে Phonto নামে একটি ফোল্ডার দেখতে পাবেন।

  • এর ভিতরে fonts নামে আরো একটি ফোল্ডার দেখতে পাবেন।

  • প্রথম ধাপে ডাউনলোড করা ফন্টগুলো এই ফোল্ডারে ভিতরে রাখুন। অর্থাৎ কপি বা মুভ করে পেস্ট করুন।

  • এরপর Phonto অ্যাপটি চালু করুন। চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করুন।

  • যদি গ্যালারি থেকে ফটো নিতে চান তাহলে প্রথম অপশনটি সিলেক্ট করুন। আর না চাইলে শুধু প্লেইন ইমেজ চাইলে দ্বিতীয় অপশনটা সিলেক্ট করুন।

  • এবার কলমের আইকন বিশিষ্ট স্থানে ক্লিক করুন।

  • যে বক্সটি আসবে সেখানে আপনার বাংলা লেখাটি লিখুন যেটি আপনি ফটোর উপর বসাতে চান। ALIGN অপশন থেকে অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করতে পারেন। এরপর FONT-য়ে ক্লিক করুন।

  • All এর আন্ডারে অনেক ইংরেজি ফন্ট দেখতে পাবেন। My Font-য়ে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার সেই কপি করা ফন্টগুলো দেখতে পাবেন।

 

ADs by Techtunes ADs
  • এখান থেকে আপনার পছন্দমতো যেকোন একটি ফন্ট সিলেক্ট করুন। যেমন: Siyam Rupali

  • এবার TEXT, FONT, STYLE, SIZE, TILT, MOVE অপশনগুলোর সাহায্যে টেক্সটটি ইডিট করতে পারবেন।

একে একে বলছি। কোনটার কাজ কী।

  • TEXT: এটা দিয়ে লেখাটি পুনরায় ইডিট করতে পারবেন। টেক্সটের লাইনগুলো ভাঙতে পারবেন।
  • FONT: এটি দিয়ে ফন্ট পরিবর্তন করতে পারবেন।
  • STYLE: এটা দিয়ে টেক্সটের কালার, শ্যাডো, স্ট্রোক, ব্যাকগ্রাউন্ড, স্পেসিং, কার্ভিং সবকিছু দিতে পারবেন।
  • SIZE: এর মাধ্যমে লেখা ছোট বড় করতে পারবেন।
  • TILT: এর মাধ্যমে লেখাকে যেকোন রকম করে বাঁকাতে পারবেন।
  • MOVE: আর এর মাধ্যমে আপনি লেখাটিকে ঠিক জায়গায় বসাতে পারবেন।

সবকিছু ঠিকভাবে করলে আপনি নিচের মতো ফটো পাবেন। সেভ চিহ্নিত বাটনে ক্লিক করে আপনি সেটা গ্যালারিতে সেভ করতে পারেন।

এভাবে খুব সহজেই আপনি আপনার স্মার্টফোনের সাহায্যের ফটোর উপর বিভিন্ন ইউনিকোড ফন্টে বাংলা লিখতে পারবেন। আর শুধু বাংলাই নয়, অ্যাপটিতে অসংখ্য ইংরেজি ফন্টও রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনি অনেক সুন্দর করে যেকোন স্টাইলে কোনো ফটোর উপর লিখতে পারেন। তাই আর ফেইসবুকে My Day-তে ভাঙা ভাঙা ফন্টে ফটোর উপর লেখার দরকার নেই। একদম ঝকঝকে তকতকে ফন্টে লিখে বন্ধু-বান্ধবদের চমকে দিন।

পরিশেষে, টেকটিউনস হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার এক সুবিশাল প্ল্যাটফর্ম। প্রতিনিয়তই থাকবেন নতুন নতুন জ্ঞানের মধ্যে। জানবেন অজানাকে। তবে হ্যাঁ। শুধু জেনেই বসে থাকবেন না। এই জ্ঞানগুলো ছড়িয়ে দিন তাদের নিকট যাদের কাছে এই টিউনগুলো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। জ্ঞান নিজের কাছে রাখার জিনিস না। ছড়িয়ে দিন আশেপাশে যারা আছে সবার মাঝে। প্রযুক্তিকে ভালবাসুন, প্রযুক্তির সাথে থাকুন। টেকটিউনসের সাথে থাকুন।

আজকের মতো এ পর্যন্তই। সামনে আবারও হাজির হবো নতুন কোনো তথ্য নিয়ে। আর টিউনটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। টিউন বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে টিউমেন্ট বক্সে প্রশ্নটি করুন। এছাড়াও ফেইসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ফেইসবুকে আমি: Mamun Mehedee

 

ADs by Techtunes ADs

 

ADs by Techtunes ADs
Level 1

আমি মামুন মেহেদী। Civil Engineer, The Builders, Bogra। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 6 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 93 টি টিউন ও 361 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 9 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

আমি আপনার অবহেলিত ও অপ্রকাশিত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

Level 0

চমৎকার সাজানো গোছানো টিউন, যদিও এখন অনেক অ্যাপ এর মাধ্যমে এই কাজ করা যায়, তবুও থ্যানক্স। আমি ব্যক্তিগতভাবে Picsay Pro ইউজ করি এই কাজের জন্য।

আজকাল স্বার্থ ছাড়া তো কেউ একচুলও নড়ে না,আপনি নিঃস্বার্থে এতবড় লেখা পোষ্ট করলেন।
পোষ্টের বিষয়বস্তু খুবই দরকারি।
আর লিখছেনও খুব গুছিয়ে।
ধন্যবাদ নয়, দোয়া করি ভাল থেকে এভাবেই মানুষের উপকার করুন